দুরন্ত চিতাবাঘ!

গাঢ় হলুদ ও কালো রঙের দুরন্ত এক প্রজাপতি। এই প্রজাপতির ডানার রং ও কারুকাজ চিতাবাঘের দেহের মতো বলে এদের চিতাবাঘ, হলুদ চিতা বা চিতা বলে। ইংরেজি নামCommon Leopard বা Leopard Butterfly। Nymphalidae পরিবারভুক্ত এই প্রজাপতির বৈজ্ঞানিক নাম Phalanta phalantha phalantha। হলুদ চিতা মাঝারি আকারের প্রজাপতি। স্ত্রী-পুরুষনির্বিশেষে প্রসারিত অবস্থায় ডানা ৫০ থেকে ৬০ মিলিমিটার হয়। দেহ ও ডানার ওপরের দিকের রং উজ্জ্বল হলুদ-বাদামি। তার ওপর রয়েছে সারিবদ্ধ কালো দাগ, যা মাথা বা পিঠে নেই। ডানার কিনারার দাগগুলো দেখতে অনেকটা শাড়ির পাড়ের মতো। স্ত্রী প্রজাপতির ক্ষেত্রে এ দাগগুলো সামান্য বড় হয়। ডানাসহ দেহের নিচের দিকের রং অনুজ্জ্বল বাদামি। তাতে নীল বা সবুজ আভা। শুকনো মৌসুমে প্রজাপতিগুলোয় উজ্জ্বল বেগুনি আভা দেখা যায়।

এরা এ দেশের সর্বত্র বাস করলেও সহজে চোখে পড়ে না। মূলত শুকনো ঝোপঝাড় ও পাতাঝরা বনের বাসিন্দা হলেও ভেজা পাতাঝরা এবং চিরসবুজ ও আধা চিরসবুজ বনের প্রান্ত, এমনকি সমুদ্রপৃষ্ঠের দুই হাজার মিটার উঁচুতেও দেখা যায়। সারা বছর দেখা গেলেও বর্ষার আগে ও শুরুতেই এদের আনাগোনা বেশি। ছায়া পছন্দ করে না বলে সব সময় রোদেলা ঝোপঝাড়ে উড়ে বেড়াতে দেখা যায়। তবে এরা কিন্তু চিতার মতো দ্রুতগতিসম্পন্ন নয়; বরং বেশ ধীরগতিতে ওড়ে। বেশি উঁচু গাছ পছন্দ করে না। ফুলের মধু পান করার সময় ডানা আধখোলা অবস্থায় রাখে। অনেক সময় এদের দল বেঁধে স্যাঁতসেঁতে মাটিতেও বসে থাকতে দেখা যায়। এরা ভেজা মাটির রসও পান করে।

স্ত্রী প্রজাপতি সারা বছর ডিম পাড়তে সক্ষম হলেও গ্রীষ্মের শেষেই বেশি ডিম পাড়ে, যখন ফ্ল্যাকোরশিয়া (Flacourtia) গাছে নতুন লালচে কচি পাতা গজায়। এরা কুঁড়ি ও কচি পাতার নিচের দিকে একটি করে ডিম পাড়ে। গম্বুজ আকারের এই ডিমের রং উজ্জ্বল হলুদ। এরা বেশ দ্রুত, মাত্র ২১ দিনেই জীবনচক্র সম্পন্ন করে।বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, মিয়ানমার, ইন্দোনেশিয়া, জাপান ও হংকংয়ে এদের দেখা যায়। সুন্দর এ প্রজাপতিগুলো আমাদের পরিবেশেরই অংশ। তাই এদের সম্পর্কে জানতে হবে এবং এদের রক্ষা করতে হবে।

আ ন ম আমিনুর রহমান |  ১৩-০৬-২০১৩

আপনাকে কমেন্টস করতে হলে অবশ্যই লগইন করতে হবে লগইন

বিষয় ভিত্তিক পোষ্টগুলো

কারিগরি সহায়তায়:

বিজ্ঞাপন

প্রবেশ - কপিরাইটঃ ২০০৭ থেকে ২০১৪ | কিশোরগঞ্জ ডট কম