গ্রামাঞ্চল থেকে হারিয়ে যাচ্ছে রুচি বর্ধনশীল করমচা

আব্দুর রাজ্জাক, মানিকগঞ্জ ॥ করমচা, টক জাতীয় গ্রীষ্মকালীন ফল। অনেকটা অযত্ন অবহেলাতেই করমচা গাছ জন্মায় এবং ফলন দেয়। ফল ধরা অবস্থায় গাছটি দেখতে খুবই সুন্দর দেখায়। পাকা ফল দেখতে চেরি ফলের মত। কাঁটায় ভরা এ গাছটি গ্রাম থেকে এখন শহরেও চাষ হয়। এর চাষ পদ্ধতিও সহজ। ফেব্রুয়ারি মাসে গাছে ফুল আসে এবং ফল ধরে এপ্রিল-মে মাসে। বর্ষায় ফল পাকে। করমচা চাষে জমি উঁচু হলেই ভালো, তবে নিচু জমিতেও চাষ করা চলে যদি পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা ভালো থাকে। করমচা খুব শক্ত ধরনের গাছ এবং দেহে আঠালো রস থাকায় রোগ ও পোকায় সহজে আক্রমণ করতে পারে না। কারও কারও বাড়ির ছাদ কিংবা বারান্দায়ও দেখা মেলে করমচার। ঝোঁপের মতো বলে গ্রামাঞ্চলে এই গাছ বাড়ির সীমানায় বেড়া হিসেবে লাগানো হয়।

Koromcha pic

এর বৈজ্ঞানিক নাম ক্যারিস ক্যারোন্ডাম। কনটোরটি বিভাগের অ্যাপোসাইনেসি শ্রেণীর অর্ন্তভুক্ত করমচা ফলের আদি নিবাস ক্যারোনডাস প্রজাতির ভারতবর্ষ, গ্রান্ডিফ্লোরা প্রজাতির দক্ষিণ আফ্রিকা এবং এডুইলিস প্রজাতির মিসরে। তবে আমাদেও দেশে এসব প্রজাতির করমচা দীর্ঘদিন ধরে চাষ হচ্ছে। বিডিএমএ’ এর অতিরিক্ত মহাসচিব ডাঃ মোঃ আবুল হাসান জানান, করমচা ফল হিসেবে বেশ অবহেলিত হলেও এর পুষ্টিগুণ কিন্তু মোটেও অবহেলা করার মতো না। প্রতি ১০০ গ্রাম করমচায় রয়েছে- এনার্জি- ৬২ কিলোক্যালরি কার্বোহাইড্রেট- ১৪ গ্রাম প্রোটিন- ০.৫ গ্রাম ভিটামিন এ- ৪০ আইইউ ভিটামিন সি- ৩৮ মিলিগ্রাম রিবোফ্লেভিন- ০.১ মিলিগ্রাম নিয়াসিন- ০.২ মিলিগ্রাম আয়রন- ১.৩ মিলিগ্রাম ম্যাগনেসিয়াম- ১৬ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম- ২৬০ মিলিগ্রাম কপার- ০.২ মিলিগ্রাম।

মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালের গাইনী বিশেষজ্ঞ- ডাঃ নাছিমা বেগম জানান, করমচাতে কোনো ফ্যাট বা কোলেস্টেরল নেই। তাই ডায়াবেটিস ও হার্টের রোগীদের জন্য এ ফল খুব উপকারী। করমচা ওজন কমাতেও সাহায্য করে। ভিটামিন সি-তে ভরপুর করমচা খাবারে রুচি বাড়ায়। এছাড়াও মৌসুমী সর্দি-জ্বর নিরাময়ে সাহায্য করে। স্কার্ভি, দাঁত ও মাড়ির নানা রোগ প্রতিরোধে করমচা সাহায্য করে। করমচা রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রেখে হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। যকৃত ও কিডনীর রোগ প্রতিরোধে করমচা সহায়তা করে। বাতরোগ ও ব্যথাজনিত জ্বর নিরামযয়ে করমচা খুব উপকারী।

ঘিওরের বালিয়াখোড়া ইউনিয়নের বাষ্টিয়া গ্রামের মোঃ ইকবাল হোসেন বলেন, আমার বাড়িতে বড় দুটি করমচা গাছে অনেক ফলন হয়েছে। প্রতিবেশিরা ও এলাকার অনেকেই নানা ঔষধ তৈরীতে কিংবা মুখে রুচির জন্য নিয়ে যায়। মানিকগঞ্জ জেলার প্রায় প্রত্যেকটি গ্রামে এক সময়ে করমচার প্রচুর ফলন হত। কিন্তু বন-জঙ্গল কেটে পরিষ্কার করা এবং জমি পরিষ্কার করে নতুন বাড়ী-ঘর নির্মাণ করার কারণে হারিয়ে যেতে বসেছে ভেষজগুণে ভরপুর করমচা। তবে সৌখিনভাবে অনেকেই টবে করে চাষ করছেন করমচা। তাই জনস্বার্থে করমচা চাষের জন্য বন বিভাগকে উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানান মানিকগঞ্জের সচেতন মহল।

আব্দুর রাজ্জাক, মানিকগঞ্জ
০১৭১৪৫৮৯৬০৬

আপনাকে কমেন্টস করতে হলে অবশ্যই লগইন করতে হবে লগইন

বিষয় ভিত্তিক পোষ্টগুলো

কারিগরি সহায়তায়:

বিজ্ঞাপন

প্রবেশ - কপিরাইটঃ ২০০৭ থেকে ২০১৪ | কিশোরগঞ্জ ডট কম