কিশোরগঞ্জ জেলার প্রবাদবাক্য

বিশ্ব লোক সাহিত্যে বৃহত্তর ময়মনসিংহ একটি বিশেষ স্থান দখল করে আছে। এরই একটি অংশ লোক সাহিত্যে উর্বর কিশোরগঞ্জ জেলা। এই কিশোরগঞ্জ জেলার আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে অসংখ্য ছড়া, গাঁথা, কিংবদন্তী, মেয়েলী গীত, প্রবাদ বাক্য এবং আরো কত কি। কিশোরগঞ্জ জেলার অজপাড়াগাঁয়ে লোক মুখে প্রচলিত রঙ বেরঙের প্রবাদবাক্য নিয়েই প্রতিষ্ঠিত এ প্রবন্ধ। চলিত প্রবাদ বাক্যগুলোকে কখন রচনা করেছিলেন তার কোন হদিস পাওয়া যাবে না। আবহমান কাল থেকে এগুলো পল্লীর অতি সাধারণ মানুষের মুখে মুখে অবস্থার গুরুত্ব বিবেচনায় প্রতিদিন প্রতিধ্বণিত হয়ে আসছে যা অবান্তর মনে হলেও পর্যবেক্ষণিক দৃষ্টিতে এক একটি তাৎপর্যপূর্ণ অর্থ আমাদের মনমানসিকতার অলক্ষে প্রতিটি প্রবাদ বাক্যে বিশেষ ইঙ্গিত দিয়ে যায়।

উল্লেখ্য, আজকাল সভ্য সমাজ এ সব প্রবাদ বাক্যগুলোকে অশালীন, অমার্জনীয়, অশ্লীল বলে মনে করেন। আবার কেউ কেউ অশালীন বাক্য বা বাক্যাংশের প্রতি শব্দ ব্যবহার করে সভ্য সমাজে পরিবেশন করে থাকেন। কিন্তু এতে লোক সাহিত্যের স্বকিয়তা রক্ষা হয় কি না, – এ প্রশ্নটি থেকে যায়। কাজেই লোক সাহিত্যের স্বকিয়তা, তথা অজানা, অচেনা রচয়িতার ইস্পিত ভাব হুবহু রক্ষার খাতিরে সংগৃহিত প্রবাদ বাক্য গুলো হুবহুই তুলে ধরছি। পাঠক সমাজ ‘এক দেশের বলি, আরেক দেশের গালি’-এ প্রবাদ বাক্যটি স্বরণ রেখেই সকল অশ্লীলতা ক্ষমার চোখে দেখবেন-এই আমার বিশ্বাস।

প্রচলিত প্রবাদ বাক্যগুলো পল্লী গ্রামের মানুষের মনের সঙ্গে এমন ভাবেই সম্পৃক্ত হয়ে আছে যে, নির্দিষ্ট পরিবেশ বা সমতা মনের অজান্তে হঠাৎ করেই মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসে। তখন প্রবাদ বাক্যগুলোকে বর্ণনাকারীর নিজের রচিত বলে ভ্রম হয়। যেমনঃ-

১। কারো স্বভাব দোষ বর্ণনা করার বেলায় বলে থাকেনঃ-

(ক) নেরার বিবি (খড়ে শুয়ে অভ্যস্থ রমনী)  খাডঅ (পালংকে)
       যায়,  ফির‌্যেয়া ফির‌্যেয়া (ফিরে ফিরে)
        নেরার দিকে ছায় (তাকায়)

(খ)  ডেহি (ঢেঁকি)  স্বর্গে গেলেও বারাবানে (ধান ভাঙ্গে)
(গ) নডি (পতিতা)  বুড়্যেয়া অইলেও ফতঅ (পথে)  বইয়া মুতে (প্রস্রাব করে)

 
২। নিজের দূরাবস্থার কথা বর্ণনা করার বেলায় অন্যেরা এ প্রবাদ ব্যবহার করে থাকেঃ-

(ক) মরা গরু গাং দিঘালে হাতার (নদীর সর্বত্রই সাঁতার)
(খ) গরীবেরও একটা মরা,     কলেবলে বুনজ্যেয়া থাহন (কোনক্রমে বুজে থাকা)।
(গ) গরীব অইয়া ধেখছনা (দেখনি),    ফুইল্ল্যা খেতাত্ কি রহম উম (ছেরা কাথায় কেমন গরম)
(ঘ) আবাগ্যেয়ার বাইগ মন্দ (অভাগার ভাগ্য),    হেয়ালে ফাদে ফুবের বন্দ। (শিয়ালে বায়ু ছাড়ে)
(ঙ) আবাগ্যেয়া হাতার দিছে, (সাঁতার),     গাংও ছিওইছে (নদীও প্রসস্থ হয়েছে)
(চ) গরীবের গরীবানা,    নুন দিয়া ছডা বানা (লবন দিয়ে পিঠা তৈরীর বর্ণনা করা হয়েছে)

৩। স্বামীকে তুচ্ছার্থেঃ-

(ক) আয় হাইয়ের হইডেয়া (স্বামীটা),     থইলাম খুসঅ (কুচকীতে),     ফর‌্যেয়া গেল তুষঅ (ধানের তুষ)
(খ) লহর ডহর হাইয়ের থাক্যেয়া (অকর্মা স্বামীর যে),     বিদবাই বালা।
(গ) ঘর জামাইয়া (ঘর জামাই) গোলামের ফুত(পুত্র),    হিতান (শিথান) থইয়া ফৈতানে (পায়ের কাছে) হুত (শুয়ে থাক)।

 ৪। প্রকৃত প্রেমের বর্ণনাঃ-

(ক) গাইয়ে বাছুরে মিল থাকলে,     বন্দও খিরানী যায় (বনেও দোহন করা যায়)।
(খ) যদি থাহে (থাকে) বন্দের মন (বন্ধুর কথা),     গাং ফার অইতে (নদী পাড়ি দিতে) কতক্ষন?
(গ) ফিরীত কি আর বুড়্যেয়া অয় (প্রেম কি বুড়ো হয়),     দেখলেই মনে লয়।
(ঘ) গাং দেখলে (দেখলে) মুতে ধরে,     লাং দেখলে আসি (হাসি) উডে।

 

৫। নিজের শত দোষ থাকা সত্ত্বেও অন্যের সমালোচনা করার বেলায়ঃ-

(ক) কাজীর গরঅ (ঘরে) আডারঅ ফুঙ্গাঁ (আঠার জারজ),     কাজী বিছরায় গর গর (ঘরে ঘরে খুঁজে) ফুঙ্গাঁ।
(খ) এক এরি (অগোছালো রমনী),     আরেক এরিরে কঅ,     এরি তুই অইর অইয়া বঅ (ঠিক মত বস)।

৬। অত্যাধিক বিলাসিতা করার বেলায়ঃ-

(ক) না ফায়া পেয়ে ফাইছে দন (ধন),     বাফে ফুতে (পিতা পুত্রে) কির্তন।
(খ) ফুতকিতে (পায়ু পথে) গু থাকলে,     জিলাফী বানায় আগে (মল ত্যাগ করে)
(গ) মাংনা লোয়া ফাইলে ছেডের আগঅ,    হামি লাগায় (পুরুষাঙ্গের মাথায়) (লোয়া-লোহা ছেডের আগঅ-পুরুষাঙ্গের মাথায় হামি-লোহার আংটা)।  

৭। অমনোযোগিতার বেলায়ঃ-

(ক) আমি করি জি জি (ঝি/মেয়ে),     জিয়ে করে হাই হাই (প্রেমিক)।
(খ)  বাউনে (ব্রাহ্মনে) মন্ত্র কয়,     ফাডার ফেলে হুনে (পাঠার অন্ডকোষও শুনেনা)।
(গ)  জিয়ের (মেয়ের) উডে তন (স্তন),     মায় ফায় না মন,     ফুতের (ছেলের) উডে দাড়ি,     ফিরে বাড়ি বাড়ি।

 

৮। নিজের ত্রুতি ঢাকার ব্যর্থ প্রয়াসঃ-

(ক) ছুরের (চোরের) মার বড় গলা।
(খ) কানা, মনে মনেই জানা।
(গ) ছুরের মনে ফুলিশ ফুলিশ (পুলিশ)।
(ঘ) যার মনে যেডা (যাহা),    ফালদেয়া উডে হেইডেয়া (লাফিয়ে উঠা অর্থে)।

 

৯। এক ঢিলে দুই পাখি বা এক কাজ করতে গিয়ে অন্য কাজ সম্পাদনের বেলায়ঃ-

(ক) ছেলামালির ছেলামালি (ছালাম দেওয়া),     কফাল খাজ্জুয়ানির কফাল খাজ্জুয়ানি (কপাল চুলকানো)।
(খ) এক গাছের বেল,    কুডুরা (ডুমুড়) গাছের তেল,    মাউগ (স্ত্রী) থইয়া তার জেওয়াইশ লইয়া গেল।
(গ) মুত্তো বইয়া (প্রস্রাব করতে গিয়ে),    আগ্যেয়া দিছে (মল ত্যাগ করে ফেলেছে)।
(ঘ) আউশ কড়্যেয়া আনছি জামাই ছেরি (মেয়ে) দিতাম কেয়া,  নিজের মনে ছট ফট করে নিজেই বইতাম বেয়া।

১০। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রতিভা প্রকাশ পেলেঃ-

(ক) দাদা যে বেডা উরাত ছিন্ন (উরুতেই চিহ্ন)
(খ) যে ডা (যে) বেডা অয় ছডি ঘরই (আতুরগরে) দন (লিঙ্গ) খাড়ায়।

 ১১। কারো গুন কির্তন শুনে যদি তার সংস্পর্শে গিয়া মিথ্যা প্রতিয়মান হয়, তখনঃ-

(ক)  শব্দেতে হুনছিলাম দালান আর কুডা (দালান কোঠা),    
 আতায় ফিতায়া দেহি (পর্যবেক্ষ করে দেখি) কুডুরার গুডা (ডুমুরের বিচি)।

(খ)  যারে না দেকছি সে বড় সুন্দরী,     যার আতে (হাতে) না খাইছি সে বড় রান্দনি (রাধুনি)।
(গ)  ছামরা (চামড়া) সুন্দর কুমড়ার বাহল (বাকল),    খায়না তার গন্দে ফাগল (গন্ধে পাগল)।
(ঘ)  কতা (কথা) আছে ছন্দে বন্দে (রসাতাক),     ঘুম আইয়ে না ফুগার গন্দে (দুর্গন্ধযুক্ত বায়ু)।,

 

১২। অতিরিক্ত বা অপ্রয়োজনীয় কাজের গুরুত্ত্ব দেয়ার বেলায়ঃ-

(ক) ফজরের নাম নাই, নফল লইয়া দৌড়াদৌড়ি।
(খ) আগ্যেয়া হছেনা (মল ত্যাগ করে পানি লয় না),     ফাদ মাইড়া (বায়ু ছেড়ে) গলা ফানিত (পানিতে)।
(গ) কাম নাই বেদি (রমনী) হাই কোলঅ লইয়া (স্বামী কোলে নিয়ে)  বেড়ায়। 

১৩। গভীর জলের মাছ বুঝাতেঃ-

(ক) ছুদুমুডু বাতারী (ছোট্ট ইঁদুর) ঠারে কতা কয়,     কাজ্যেয়া লাগায়া বাতারী চাঙ (সিলিং এ) উঠ্যেয়া বয়।
(খ) জাগ্যেয়া করেনা রাও,     জানে হগল (সকল) কথার বাও।
(গ) মিরমিড়্যোয়া গুড়া (ঘোড়া) কালাই খাওনের যম।
(ঘ) কি করবো সুজন ফুতে (পুত্রে)     কাঠ কুরালী (গাছ ছিদ্রকারী পাখি) তার সাথে হুতে (শোয়)।  

১৪। কাজের কিছুইনা, অথচ বড় বড় বুলিঃ-

(ক) আগেনা ফুকটি (মলশূন্য পায়ু),     ফেরফেরাইয়া ডাক।
(খ) বাপ দাদার নাম নাই ছান মল্লের (চাঁন মড়লের) বেয়াই।
(গ)  ছেম (পুরুষাঙ্গ) নাই বেডার বেয়া শুক্কুর বারে।
(ঘ) ডাক বড় মাইর ঠস্ (টিলা)।
(ঙ) মার নাম কেছলী বান্দী, ফুতের (পুত্রের) নাম সুলতান খাঁ।
(চ) বাড়ি উল্যেয়ার বাড়ী নাই,    বাউল্যেয়র মুহঅ (পরের বাড়িতে বাসকারী মুখে) ছাগদাঁড়ি।
(ছ) ছাল নাই কুত্তার বাঘা নাম।

 

১৫। অনেক ত্যাগ তিতিক্ষার পরও কারো সহানুভূতি পেতে ব্যর্থ হলেঃ-

(ক) বক্ত অইলোবুরা (ভাগ্য হলো মন্দ),    যার লাগ্যেয়া করি ছুরি (চুরি),     হেই ডাহে ছুরা (চোরা)।
(খ) ফকটি ফাইট্যেয়া মুরগী মনে,     গিরসে কয় ছুডু ছুডু আন্ডাফারে।
(গ) হাইএ কয়না তিরি (স্বামী স্ত্রীবলে স্বিকার করে না),    ফাছে ফাফে (পিছনে পিছনে) ফিরি।

১৬। অসময়ে কাজের লোকে সাক্ষাত পেলে কাজের ত্বরাঃ-

(ক) ফতঅ (পথে) ফাইছে কামার,     দাও দারায়া দে আমার।
(খ) নাফিত দেখলে কুনি নুখ (নখ) বাড়ে।

 ১৭। অল্প বিদ্যা ভয়ংকরী বুঝাতেঃ-

(ক) দুই দিনের যুগী অইয়া বাতেরে (ভাতেরে) কয় অন্ন।
(খ) কালফোয়র (কালকের) মুরগী,     আজগোয়াই (আজকেই) টুককুর।
(গ) জালর ফুত (জেলের ছেলে) সরহার অইল (শিক্ষিত হলে) বেঙ্গেরে কয় বেরেং।

 

১৮। অসামজ্ঞস্য জিনিসের তুলনা করার বেলায়ঃ-

(ক) কই আগরতলা, আর কই উগারতলা (মাচারতলা)।
(খ) কই রাম রাম, আর কই টে টে।
(গ) কই মহারানী, আর কই ছুতমারানী (এক প্রকার গালি)।
(ঘ) কই লিয়াকত আলী,     আর কই জুতার কালি।

 

“CULTUREIS THE MIRROR OF THE NETION”- “সংস্কৃতি হলো জাতির দর্পন” এর আলোকে লোক সাহিত্যকেই প্রকৃত সাহিত্য বলে ধরে নেয়া যায়। কারণ, একমাত্র লোক সাহিত্যেই ফুটে উঠে দেশের গড়িষ্ঠ সংখ্যক মানুষের হাসি কান্না, সমাজ ব্যবস্থা, জড়িয়ে থাকে জাতির স্বকিয়তা। বক্ষস্থ প্রবাদ বাক্যগুলোতেও এর প্রতিফলন বিদ্যামান। পরিসরের স্বল্পতাহিতু প্রসঙ্গিক সংক্ষিপ্ত ভূমিকা ছাড়াই বাকী প্রবাদ বাক্যগুলো পেশ করা হলোঃ-

১। হসার (শসার) গুডাও গুডা,   লাউয়ের গুডাও গুডা (বীজ) 
       দখ্যেয়ার মায় হাঙ্গা (নিকা) বইবো,   এইডেয়াও একটা (এটাও) খুডা?

২। ঘর কাডুরী (ঘরে বিশৃংখলা সৃষ্টিকারী) হুতা (সুতা) কাডে 
       কিছু ছিহন (চিকন), কিছু মোডা (মোটা)।

৩। কুতায়া (কুঁথ দিয়া) আগেনা (মল ত্যাগ করে না) 
        ফেদঅ বুক (পেটে ক্ষুদা) লাগবো কড়্যেয়া।

৪। রারী (বিধবা) বেডির আডারঅ (আঠার) লাং (প্রেমিক)।
৫। গরীবের বউ, বেহেরেই বাউজ (সকলের ভাবী)।
৬। কর্তা বলে ছুদির ভাই (সালা বলে গালি),   আনন্দের আর সীমা নাই।
৭। এমনেই নাছুন্যেয়া বুড়ি (নাচে অভ্যস্থ),   আরো ফাইছে ঢোলের বারি (শব্দ)।
৮। মাউগ (স্ত্রী) অইছে মহারানী,   মা অইলো ছুতমারানী (এক প্রকার গালি)।
৯। ছাদিও মাডিত ফরে (চাতি থেকে মাটিতে পরে),   হাইয়ের (স্বামীর) আদর বাড়ে।

১০। ফান (পান) খাইলে স্বাদ লাগেনা,     স্বাদ লাগে তার ছুনে (চুনে) 
         রূপ দেখ্যয়া মন বুলেনা,     মন বুলে (ভুলে) তার গুনে।

১১। কামের কাম কি আর বলে অয়?
১২। বেককলর তিন আসি (হাসি)।
১৩। যার বেয়া (বিয়া)হের খবর নাই,ফাড়া পড়শীর ঘুম(পাড়া প্রতিবেশির ঘুম) নাই ।
১৪। আগিলাগো আগিলা কত ভালা আছিলা।
১৫। যেমন তেমন দুই বাই(ভাই) য়ার যেমুন তেমুন দুই গাই(গাভী)।
১৬। জামাইরা সাত বাই(ভাই),     এহকা (একা)জামাই না থাকলে কেউ নাই।
১৭। বাগ (বাঘ) নাই দেশঅ হেয়াল(শিয়াল) রাজা ।
১৮। দুধ দেয় গাইয়ের লাত্তিও বালা (ভাল)।
১৯। মার ফুরে না (ব্যাথা লাগেনা) মারানীর (স্ত্রীর) ফুরে।
২০। থাকতে কাচি (ধান কাটার দা),    আরাইলে(হারালে)দাও (দা)।
২১। উছিত কতায় বন্দু (বন্ধু) বেজার,      ততা(গরম) ভাতে বিলাই বেজার।
২২। মার সাতে (সাথে)মামুর বাড়ীর গপ্প(গল্প)।
২৩। দুদের(দুধের) দর দেখ্যেয়া,     মেরা মেরী(ভেড়া ভেড়ী) উর নামায়।
২৪। বওনের জায়গা আইলে হুতনের বাও অয়।
২৫। ঠেলার নাম বাবাজী।
২৬।গাও মানে না আফনেইও (নিজেই)মড়ল।

কিশোরগঞ্জের লোকসাহিত্য আরো প্রসিদ্ধিলাভ করবে যদি আমরা যৌথ ভাবে এগুলো সংগ্রহ ও সরক্ষণের উদ্যোগ নেই।আমরাই তুলে ধরবো পল্লীর প্রত্যন্ত অঞ্চলের পুত্রহারা বিধবার করুন কাহিনী।যে বিধবার নয়নের মণি “অল্প বিদ্যা ভয়ংকরীর”মত কথায় কথায় ইংরেজী বলত আর তা সুনে বিধবা নিজের ছেলেকে বিদ্যার জাহাজ মনে করে গর্ববোধ করতো।একদিন খেতে বসে এই বিদ্যার জাহাজের গলায় গেল ভাত আটকে।সে মাকে উদ্দ্যেশ করে বলতে লাগল- ‘মাদার ওয়াটার,ওয়াটার।বেচাড়ী মা কিছুই বুঝতে না পেরে ছেলেকে আরো ভাত তরকারী দিতে লাগল।আবার কখনো পিডা ভাত এনে দিলো।কিন্তু পানি আর দিলনা।এদিকে ওয়াটার ওয়াটার করতে করতে বিদ্যার জাহাজ তলিয়ে গেল- অর্থাৎ শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করলো।বিধবাতো কিংবর্তব্য বিমূঢ়।যখন বুঝতে পারলো তার বিদ্যার জাহাজ বিউকের ধন আর ইহ জগতে নেই,তখন অধিক শোকে পাথরের ন্যায় বুক ভাঙ্গাঁ দীর্ঘশ্বাস ছিড়ে বলে উঠলো,

“ বাংলাতে আছিলা পুত (পুত্র)
এংরাজিতে গেলা,   ওয়াটার ওয়াটার কর‌্যেয়্যা ফুত 
ছিগাইয়্যা (অস্বাভাবিক মৃত্যুর বিকৃত রুপ) না   রইলা।”                             

 লেখকঃ সফি উদ্দিন ভূঞা

 

2 Responses for “কিশোরগঞ্জ জেলার প্রবাদবাক্য”

  1. আসিফ ইকবাল খান (কাকন) বলেছেন:

    খুব ভাল লাগলো। কিশো্রগঞ্জের জাহাংগীর ভাই, উনার লিখা একটা বই আছে, স্থানীয় প্রবাদ এর উপর।

আপনাকে কমেন্টস করতে হলে অবশ্যই লগইন করতে হবে লগইন

বিষয় ভিত্তিক পোষ্টগুলো

কারিগরি সহায়তায়:

বিজ্ঞাপন

প্রবেশ - কপিরাইটঃ ২০০৭ থেকে ২০১৪ | কিশোরগঞ্জ ডট কম