‘যুদ্ধাপরাধীদের মানবাধিকার লংঘন নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে না যুক্তরাষ্ট্র’

একাত্তরের যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের বিচারে অভিযুক্তদের ‘মানবাধিকার লংঘনের’ বিষয়ে কোনো প্রশ্ন তোলার অধিকার যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের নেই বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি আয়োজিত ‘অবৈধ পঞ্চম সংশোধনী, সা�প্রদায়িক দল নিষিদ্ধ করা এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের বিচারে স্বচ্ছতা নিশ্চিতের জন্য সরকারের প্রতি বরাবরই আহ্বান জানিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য। এই বিচার যেন ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ না হয় তাও নিশ্চিত করতে বলছে বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী এই দেশ দুটি।

যুক্তরাষ্ট্র একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধীতা করেছিল।

শফিক আহমেদ বলেন, “আমি যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যকে বলে দিতে চাই ৩৯ বছর আগে যখন এদেশে ৩০ লাখ মানুষকে হত্যা করা হলো, দুই লাখ মা-বোনের ইজ্জত নেওয়া হলো, এক কোটি মানুষকে দেশ থেকে বিতারিত করা হলো- তখন আপনাদের মানবাধিকার কোথায় ছিল? সেদিন কি মানবাধিকার লংঘিত হয়নি?”

তিনি বলেন, “সেই ঘটনার বিচার করলে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকার কারোরই নেই।”

আইনমন্ত্রী বলেন, “মানবাধিকার কী তা আমরা বিশ্বের অনেক দেশকে দেখিয়ে দিতে চাই। আমাদের বিচার ব্যবস্থা অত্যন্ত স্বচ্ছ ও শক্তিশালী। এখানে যে বিচার হবে তা অনেক দেশের চেয়ে বেশি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন।”

তিনি জানান, এখানে অপরাধীদের বিচার হবে। কাউকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিচারের মুখোমুখি করা হবে না। বিচার হবে প্রকাশ্যে।

আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ-ইনু) সভাপতি হাসানুল হক ইনু, বিচারপতি সৈয়দ আমিরুল ইসলাম, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান, গণফোরামের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য পংকজ ভট্টাচার্য, সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের সমন্বয়ক সাবেক সেনাপ্রধান লে. জেনারেল এম হারুন-অর-রশিদ প্রমুখ।

সভায় সভাপত্বি করেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মনজুরুল আহসান খান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পার্টির সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম।

প্রবন্ধে উচ্চ আদালতের রায় দ্রুত বাস্তবায়ন করে ‘৭২-এর সংবিধান পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং সংবিধানের ৭ম ও ৮ম সংশোধনীও বাতিলের দাবি জানানো হয়।

খালেকুজ্জামান বলেন, সংবিধানের ৫ম সংশোধনীকে অবৈধ ঘোষণা করে উচ্চ আদালতের রায়ের ফলে ৭ম ও ৮ম সংশোধনীও সয়ংক্রিয়ভাবেই বাতিল হয়ে যাবে।

রাশেদ খান মেনন বলেন, ৫ম সংশোধনী সংক্রান্ত উচ্চ আদালতের রায় বাস্তবায়নে কিছু অসঙ্গতি দেখা দিচ্ছে। ৮ম সংশোধনীতে ইসলামকে রাষ্ট্র ধর্ম করা হয়েছে, অন্যদিকে ৫ম সংশোধনীর রায়ে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

৫ম সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশকে ‘ধর্মীয় রাষ্ট্রে’ পরিণত করা হয়েছিল মন্তব্য করে বিচারপতি সৈয়দ আমিরুল ইসলাম বলেন, “উচ্চ আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। এ বিষয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। একই সঙ্গে জাতীয় সংসদকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে আমাদের জাতীয়তা কী হবে।”

ইনু বলেন, এই রায় দেশে ন্যায়-অন্যায়ের মধ্যে একটা সীমারেখা টেনে দেবে। আর কোনোদিন অন্যায়ভাবে ক্ষমতা দখল করা যাবে না।

আপনাকে কমেন্টস করতে হলে অবশ্যই লগইন করতে হবে লগইন

বিষয় ভিত্তিক পোষ্টগুলো

কারিগরি সহায়তায়:

বিজ্ঞাপন

প্রবেশ - কপিরাইটঃ ২০০৭ থেকে ২০১৪ | কিশোরগঞ্জ ডট কম