হাওড়-বাঁওড়ের দেশ কিশোরগঞ্জ। প্রত্যন্ত উপজেলা মিঠামইনের তেলীখাই গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে হাটুরিয়া নদী। এ নদীর পাড়ে আছে মাঝারী আকারের একটি বট গাছ। শতবর্ষী এ বটগাছের সঙ্গে জড়িয়ে আছে  রাজাকারদের স্মৃতি ।  ১৯৭১ সালে গনহত্যার অপরাধে এ গাছে ঝুলিয়ে চার রাজাকারকে প্রকাশ্যে ফাঁসি দেওয়া হইয়েছিল।

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের অন্যান্য গ্রামের মত তেলীখাই গ্রামের দামাল ছেলেরা মুক্তিযোদ্ধে অংশ নেয়।  মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়ার অভিযোগে স্থানীয় রাজাকাররা ঐসব মুক্তিযোদ্ধাদের নিকটা আত্মীয়দের হত্যা শুরু করে।

রাজাকাররা এভাবে গ্রামের ২১ জন নিরপরাধ মানুষকে পাকিস্থানী ক্যাম্পে নিয়ে হত্যা করে তাদের লাশ গুম করে দেয়। এসব শহীদদের কেউ ছিলেন স্থানীয় হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক, কেউ ছিলেন ইউপি চেয়ারম্যান, কেঊ কৃষক বা ছাত্র।

তেলীখাই গ্রামের রাজাকারদের এ নৃশংসতার খবর যুদ্ধরত মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে পৌছে যায়। তারা প্রতিশোধ নেয়ার প্রহর গুনতে থাকেন। পাকিস্থানি সেনাদের পরাজয় অবধারিত জেনে স্থানীয় রাজাকাররা ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে আত্মগোপন করতে থাকে। তাদের কেঊ কেঊ কিশোরগঞ্জ শহরে এসে গা ঢাকা দেয়।

মুক্তিযোদ্ধা হায়দার আলী ভূঞা ৭ই ডিসেম্বর কয়েকজন সঙ্গীকে নিয়ে কিশোরগঞ্জ শহরে দুঃসাহসী অভিযান চালিয়ে চার কুখ্যাত রাজাকারকে ধরে ফেলেন। তারা হলো – মৌলানা আবু তাহের, কোরবান আলী, ইদু মোল্লা ও ফজলুল হক ।

১৭ ডিসেম্বর কিশোরগঞ্জ শত্রু মুক্ত হয়। সেদিনই কিশোরগঞ্জ শহর থেকে চার রাজাকার কে তেলীখাই গ্রামে নিয়ে আসা হয়। তাদের প্রকাশ্য ফাঁসির দিন, তারিখ, সময় জানিয়ে মিঠামইন উপজেলায় মাইকিং করা হয়। ২২ শে ডিসেম্বর বিকাল ৩টায় হাজার হাজার মানুষের সামনে হাটুরিয়া নদীর পাশের এই বট গাছের ডালে একে একে চার জন রাজাকারকেই ফাঁসি দেয়া হয়। এরপর জানাজা ছাড়ায় তাদের মাটিচাপা দেয়া হয় । পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রতিষ্ঠিত হলে ঐ দড়ি জাদুঘরে দান করা হয় । এভাবেই রাজাকারদের কুকৃত্বীর সাথে জড়িয়ে পড়ে বট গাছটি ।