সমুদ্র নয়, কিন্তু সমুদ্রেরই আরেক রূপ, সাগরের মতোই বিশাল নীল দরিয়া, জলরাশি, নামকরণও হয়েছে সাগর শব্দটি অপভ্রম হয়ে সায়র, আর সায়র থেকে হাওর। ভাটির দেশ বাংলাদেশ। হাওর এলাকাকে ভাটি এলাকাও বলা হয়। হাওর একটি বিশাল চ্যাপ্টা বেসিন, বাটির মতো। দেশের অন্য অঞ্চল হতে নীচু, সমুদ্র সমতল হতে এর উচ্চতা খুব একটা বেশী নয়। উজান হতে বর্ষায় নেমে আসা অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি এ বেসিনে জমে সমুদ্রের রুপ ধারণ করে। ভৈরবে, ব্রীজের নীচ দিয়ে প্রবাহিত মেঘনা নদী দিয়ে এক সাথে সব পানি সরে যেতে না পারাও পানি জমার আরেকটা কারণ। এটাও একটা বড় ধরণের জলাবদ্ধতা বটে। তবে স্বাভাবিক জলাবদ্ধতায় পানির কোন  স্রোত থাকে না। কিন্ত হাওরে মৃদ স্রোত আছে। সমুদ্রের জোয়ার ভাটার প্রভাব এখানে সুস্পষ্ট। বর্ষার ছ’মাস সমগ্র হাওর এলাকা থাকে পানির নীচে, বাকী ছ’ মাস শুকনা; ছ’মাস কাজ আর ছ’মাস বেকার। আল্লাহর অপার সৃষ্টি, রহমত, ষড় ঋতুর লীলা ক্ষেত্র-হাওর।হাওরের গ্রামের গঠন, প্রকৃতি, পরিবেশ, জীবন যাত্রা ও সংস্কৃতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। গ্রামগুলো সাধারণ ভূমি হতে ১০-১৫ হাত উচুঁ করে তৈরী যেন বর্ষার প্লাবনে ডুবে না যায়। বর্ষায় এক একটি গ্রাম যেন এক একটি ’আন্দামান দ্বীপ’। এ সময় ঢেউ এর আঘাতে ভিটে-মাটি ক্ষত বিক্ষত, ভাঙ্গনে ঘর বাড়ি, গাছ, পালা হেলে, নূয়ে শুয়ে উপ্রে পরে। মানুষের সহায় সম্পত্তি ভেসে/ ক্ষতি হয়। সব হারিয়ে গ্রামগুলো উদোম গায়ে, বিধ্বস্থ, বিবর্ণ ও ফ্যাকাশে হয়ে পরে। প্রত্যেক গ্রামে ঢেউয়ের ছলাৎ ছলাৎ শব্দে আতংক ছড়ায় । ‘হাওর দ্বীপ’এ টি খুব স্বাভাবিক দৃশ্য। প্রকৃতির এমন বিচিত্র বৈশিষ্ট্য নিয়েই প্রতিবছর এখানে বর্ষা আসে, বর্ষা যায়।

“আফাল” তিনটি বর্ণের একটি শব্দ ! হাওরবাসির কাছে টর্পেডো, ভীম ভাসমান মাইনের মতো ভীতকর এর ফল। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া, ঘন ঘোর অমানিশা, মেঘাচ্ছন্ন আকাশ, ঝড়, অবিরাম বৃষ্টি, ধমকা হাওয়া, ঝির-ঝির বৃষ্টির সাথে প্রচন্ড বেগে প্রবাহমান বাতাস। ফলে হাওরের জলরাশিতে সৃষ্টি হয় উথাল “চাঁন কপাইল্যা” ঢেউ। এ পরিস্থিতিকে “গাদলা দিন” বলে। “বাদলা দিন” হতেই হয়ত ’ঘাদলা দিন’ এর উদ্ভব হয়েছে। সৃষ্ট বড় বড় এ ঢেউ কে  “আফাল”  বলে। যা আছরে পরে দ্বীপসম গ্রামে, আঘাত করে একের পর এক। স্রেুাতের অনুকুলে উত্তর দিকের বাতাস বড়ই ভয়াবহ। এতে ঢেউ এর ভাঙ্গণের গতি. ক্ষমতা ও তীব্রতা অনেক বেশী থাকে। “আফাল” শব্দটি বিশ্লেষণ করলেই এর ভয়াবহতা, ধ্বংস ক্ষমতা বুঝা যায়। আমি একে এভাবে বিশ্লেষণ করি- ’আ’ মানে আপদ, ’ফা’ মানে ফাঁড়া এবং ’ল’ মানে লন্ডভন্ড। “আফাল” এর তাফালিং বিপদ ঢেকে আনে, সব কিছু লন্ড-ভন্ড করে দেয়।

আফালের আরেক নাম তুফান। সমুদ্রাকৃতির বিশাল জলরাশিতে প্রতিটি গ্রাম কচুরিপানার মতো ভাসমান। আফালে হাওর ভাটি বাংলায় জনজীবন স্থবির হয়ে পরে। হাওরে সৃষ্টি হয় বিশাল বিশাল বড় বড় ঢেউ; দূর হতে স্ববেগে আঘাত করে ভঙ্গুর বিস্তীর্ণ উন্মুক্ত বৃক্ষ বিহীন গ্রামগুলোর উপর আছড়ে পরে। উত্তাল ঢেউয়ের গ্রাসে ভেঙে যাচ্ছে মাটির আদল। গ্রামগুলো সামান্য ঘাস, ছোবড়া, বাঁশ, এক প্রকার ঘাস- চাইল্যা প্রভৃতি দিয়ে প্রতিরক্ষা দেয়াল তৈরী করা হয়। প্রতিবছরই এভাবে প্রতিরক্ষা দেয়াল দিতে হয়। “আফাল” শুরু বাড়ি ঘর রক্ষা করতে ঘরের ছাদ, বেড়া, খড়ের গাদা সব কিছু দিয়ে ব্যর্থ চেষ্টা করে হাওরবাসি। হলে বিলুপ্ত হাওর উন্নয়ন বোর্ডের হিসাব মতে, হাওরবাসি তাদের আয়ের ১/১৬ অংশ ব্যয় করেন এ প্রতিরক্ষা দেয়াল নির্মানে। এ প্রতিরক্ষা দেয়াল ঢেউ এর আঘাতে লন্ড-ভন্ড হয়ে, কাঠ কুঠুরির মতো সব হাস মুরগি গরু বাছুর ভেসে যায়। অনেক বাড়িতে ঘরের চাল দাঁড়িয়ে আছে, ভিটে মাটি, ঘরে বেড়া নেই। ঘরের ছাল ছুয়ে পানি পরে। ঘরে বাইরে মানুষ পানিতে নাকানি চুবানি খায়। আবার কোন কোন বাড়ি একেবারেই নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। প্রতি বছরই এ রূপ ভাঙ্গনে গ্রাম গুলোর অস্থিত্ব বিলীনের পথে। ইতিমধ্যেই অনেক গ্রাম ভেঙ্গে বিলীন হয়েছে, সরু হচ্ছে গ্রামগুলোর এর আয়তন। হাওর এলাকার ভীটের জায়গা বড়ই মহা-মূল্যবান, দামী। হাওরের ঢেউ এর আঘাত উপেক্ষা করে নতুন বাড়ি তৈরী, বাড়ানো ও টিকিয়ে রাখা বড়ই কষ্টসাধ্য কাজ। এক চিল্তে খোলা মাঠ বড়ই দুর্লভ। আফালের ফলে সব কিছু কাদা-জলে একাকার হয়ে এক মানবেতর জীবন যাপন করতে বাধ্য হয় হাওরবাসি। ভীটের মাটি বন্যায় সরে গিয়ে, বেড়া বিহীন ঘরের ভাঙ্গা খুটি দাঁত বেড় করে উপহাস করে। কারণ, বর্ষাকালে হাওর-ভাটি বাংলায় বাঁশ-কাঠ, চাইল্যা, দু¯প্রাপ্য হয়ে পড়ে। দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ বেড়ে যায় দাম, দুর্লভও বটে। ফলে গরিব ও খেটে খাওয়া মানুষদের বাড়িতে প্রতিরক্ষা দেয়াল দেয়া সম্ভব হয় না। অপ্রতিরোধ্য ভাঙনে চোখের সামনেই তাদের বাড়িঘর ভেঙে ভেসে যায়। বিশেষ করে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এ ভীটে ঘর ভরাট ও পুন;নির্মাণ অনেক সময় সম্ভব হয়ে উঠে না। হলেও ঋণ কর্জে জর্জরিত নিস্পেশিত হতে হয়।

প্রতি বছর বৈশাখ থেকেই হাওর-ভাটি বাংলায় বর্ষা আগমনের সাথে আফালের তাফালিং শুরু হয়। শেষ হয় আশ্বিণ-কার্তিকে। বর্ষা এলেই থমকে যায় সবকিছু। অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার সংগ্রামে লিপ্ত হয় কর্ম চাঞ্চল্যহীন হাওরবাসি মানুষ। বর্ষাকালে হাওর এলাকার প্রতিটি বাড়ি ’জলবন্দি’ হয়ে পড়ে। কিন্তু আফাল তাদের ’ঘর বন্ধি’ করে রাখে। আফালের ফলে জনজীবন বিপর্যুস্থ হয়ে স্বাভাবিক চলাচল ব›দ্ধ হয়ে পরে। অঘোষিতভাবে স্কুল, হাট বাজার, যোগাযোগ বন্দ্ব থাকে। এমনিতেই হাওরের স্কুলগুলো বর্ষায় শিক্ষার্থী/ শিক্ষকের অভাবে প্রায়ই ব›দ্ধ থাকে। আর আফালের সময় হাওরের বেশিরভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অলিখিত ছুটি থাকে। এ সময় ছাত্রছাত্রী এমনকি শিক্ষকরাও নিয়মিত স্কুলে আসতে পারে না। কারণ এলাকায় সড়ক যোগাযোগ বলতে কোন ব্যবস্থা নেই। ঘর থেকে বেরুলেই প্রয়োজন হয় নৌকা বা ট্রলারের। কয়েকটি প্রাথমিক ও উচ্চ বিদ্যালয় ঘুরে দেখা গেছে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার একেবারেই কম। কোন কোনটিতে সর্বোচ্চ উপস্থিতির হার মাত্র ৫/৬ জন। এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষকরাও বর্ষাকালে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার কমে যাবার বিষয়টি স্বীকার করে বলেছেন, এ সময়টিতে আমাদের করার কিছুই থাকে না।

স্থায়ী ছ’মাস বেকার হাওরবাসিকে আফাল “ঘর বন্ধি” করে অচল করে দেয়। স্যাত স্যাতে আবহাওয়ায়, কাদা জলে মানুষের রোগ বালাই বৃদ্ধি করে। মানুষের জীবিকা সংকট দেখা দেয়। আফালকে উপেক্ষা করে মৎস্যজীবীরা জাল নিয়ে ঘর হতে বের হতে পারে না। জলমহাল লীজ গৃহীতাদের উৎপাত তো রয়েছেই। অনেক সময় নৌকা ডুবিতে মানূষ মারা যায়। প্রচন্ড ঢেউ এর ফলে জলজ উদ্ভিদের পরিবেশ, মাছের আবাস বিনষ্ট হয়। পলি পরে ভরাট হয় বিল ঝিল। জলজ উদ্ভিদ মাটি হতে ্উপ্রে ছিড়ে ভাঙ্গনকে বেগবান করে। সুপেয় পানির অভাবে ডায়রিয়া সহ রোগ বালাই বৃদ্ধি পায়। এ অবস্থায় মানুষের কাছে হাওরের পানিতে প্রতিফলিত ’পূর্ণিমার চাঁদ যেন জ্বলসানো রুটি’ সম। কর্মহীন মানুষেরা নিরুপায়, ঝুকছে দাদন ব্যবসায়ীদের উপর। মাসে পাচ টাকা হারে সুদের ব্যবসীদের গ্যাড়াকলে আটকা পরে। হাটবাজারে চাল-ডালসহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যায়। বর্ষাকালে হাওর এলাকায় সবচেয়ে বড় সংকট হয় জ্বালানি ও গো-খাদ্যের। জ্বালানির অভাবে এ সময়ে অনেক পরিবারে দিনে একবার রান্না করারও উপায় থাকে না। নিরুপায় লোকজন ৫-১০ ফুট হাওরের পানিতে ডুব দিয়ে এক ধরণের দুর্বা ঘাস তুলে। রোদে শুকিয়ে তা রান্নার জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। তাও বর্তমানে দুর্লভ। এছাড়া গো-খাদ্যের অভাবে বর্ষার আগেই কৃষকরা অধিকাংশ গরু বিক্রি করে দেন। ফলে শূকনো মৌসুমে যেসব কৃষকের ১০/১৫ টি গরু থাকে তাদের গোয়ালে এখন দু’তিনটি গরুও নেই। হাওর-ভাটি বাংলায় প্রতিবছর এভাবেই আতঙ্ক, কর্মহীনতা, জঠর জ্বালা, হতাশা এবং বেচেঁ থাকার সংগ্রামের বারতা নিয়ে বর্ষা আসছে, যাচ্ছে। প্রকৃতির বিরুদ্ধে জীবনের চলছে নিরন্তর যুদ্ধ। বাঁচার সংগ্রাম। বন্যা এখানকার স্বাভাবিক বিষয়। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য বন্যার সময় সারাদেশের মতো হাওরের মানুষ এতটুকু আৎকে উঠে না। কারণ বন্যা হাওরবাসির জীবনের সাথে মিশে যাওয়া এক চিরন্তন বাস্তবতা। বন্যাকে তাঁরা আয়ত্ব ও আশ্বস্থ করেই বাসবাস করে। কিন্ত অফালের তাফালিং জীবনকে পর্যদুস্থ করে তুলে।

মঙ্গা কবলিত এলাকার জন্য সরকার প্রতিবছর কর্মসৃজনে বিশেষ কর্মসূচী চালু করে থাকে। কিন্তু হাওর এলাকার প্রায় দুই কোটি লোক যুগ যুগ ধরে বছরের ছ’মাস বেকার থাকে। তাদের কর্মসংস্থানে কোন পদক্ষেপ নেয়া হয় নাই। এ যে একটা বড় সমস্যা, কেউ সে দিকটা একবার ভেবেও দেখে না। অথচ উন্মুক্ত জলাশয়ে, খাড়িতে মৎস্য-মুক্তা চাষ, ভাসমান কৃত্রিম ভূমিতে, মাচায় সব্জি চাষ, কুটির শিল্পের প্রসার, হাঁস পালন, সৌর বিদ্যুতের ব্যবহার বৃদ্ধি, পর্যটন শিল্প বিকাশের অফুরন্ত সম্ভাবনা রয়েছে এখানে। গার্মেন্টস শিল্পের একটা অংশ হাওর এলাকায় স্থানান্তর করা যেতে পারে। সহজে ও সস্তায় নেী চলাচলের জন্য ’হাওর ইপিজেড’ বা ”শিল্প পার্ক’ স্থাপন করা যেতে পারে। এ ব্যাপারে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

আফালের তাফালিং হতে হাওর গ্রামকে রক্ষার পরিকল্পিত পরিকল্পনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা অপরিহার্য। বিচ্ছিন্ন ভাবে, যেখানে সেখানে ছোট গ্রাম তৈরী করতে দেয়া যাবে না। জমি, পরিবেশ ও গ্রাম সুরক্ষার স্বার্থেই তা বন্ধ করতে হবে। পরিকল্পিতভাবে, সে্রুাতের অনুকূলে, সুবিধাজনক স্থানে, আড়া আড়িভাবে, কয়েক স্তরে, সমন্বিত নতুন নতুন গ্রাম সৃজন করতে হবে। এ গ্রামকে কেন্দ্র করে হাওর জীবনে নতুন প্রাণ সঞ্চারের সৃষ্টি হবে। এ ক্ষেত্রে ভিটা তৈরীর গাথুনি দেয়ার সময় মাটির সাথে শক্ত কিছু মিশ্রণ মিশানো যায় কি না গবেষণায় বের করতে হবে। পুরোনো গ্রাম গুলোকেও এ পরিকল্পণার আওতায় আনতে হবে। গ্রাম সুরক্ষার জন্যে গ্রাম ও হাওরে জলজ সহিঞ্চু বৃক্ষরাজি রোপন করতে হবে। প্রত্যেক গ্রামকে কেন্দ্র করে কয়েক স্তরের বিভিন্ন গাছ গাছালির সবুজ বেস্টনি গড়ে তুলতে হবে। প্রতিরক্ষার জন্য স্থানীয় উপকরণের উৎপাদন বাড়ানো, সহজ লভ্য করা, সংরক্ষণ এবং জনগণকে প্রশিক্ষিত করতে হবে। ’আপদকালিন ফান্ড’ও রাখা যেতে পারে। শামুক, ছিনাই (ঝিনুক) বা মাছ ধরার জন্য পানির নীচের উদ্ভিদ রাজিকে ধবংস করা যাবে না। জলি ধান বা পাট চাষ কে ফিরিয়ে আনার টেকনিক বের করতে হবে। এগুলো পানির বা স্রেুাতের গতিকে (ঢেউ) ব্যহত করে। গ্রামের চারিদিকে স্থায়ী পাক্কা প্রতিরক্ষা দেয়াল দেয়া যেতে পারে। শত বছর ধরে চালু পাক্কা প্রতিরক্ষা দেয়াল পদ্ধতি অনুসরণ করা যেতে পারে। এ জন্যে সরকারি পৃষ্টপোষকতা দরকার। হাওরে পর্যাপ্ত বন্যাশ্রম তৈরী করতে হবে। আবহাওয়া পূর্বাভাষ ব্যবস্থাকে জোড়দার করতে হবে। হাওরকে একমুখী শুধু ধান ফসল নির্ভর না করে বছর ব্যাপী বহুমুখী ফসল চাষের ব্যবস্থা করতে হবে। তাদেরকে বছরব্যাপী কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে হবে। সরকার শহরের ’মাস্তানী’ ও অনান্য নাগরিক দুর্ভোগ লাগবে কত কিছুই না করছে। কিস্ত হাওরে “আফালের তাফালিং”  বন্ধে কি কিছু করা যায় না? হাওরের সম্ভাবণা ও সমস্যা নিয়ে কাজ করার জন্য ’হাওর কৃষি গবেষণা ও উন্নয়ন ইনস্টিটিউট’ প্রতিষ্ঠা এখন সময়ের দাবী। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, হাওর উন্নয়ন বোর্ডকে বাজেট, জনবল, পরিকল্পণা দিয়ে শাক্তিশালী ও কর্মক্ষম করতে হবে যেন হাওরের উন্নয়নে কার্যকর ভ’মিকা রাখতে পারে।

কৃষিবিদ ও হাওর ভূমিপুত্র
ফোন: ০১৭২৭ ০৭৪ ৫৮৪
ইমেইলঃ niazpasha@yahoo.com