হার দিয়ে শুরু, বিশ্বকাপ জয় দিয়ে শেষ। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জিতে নতুন করে ইতিহাস লেখলো স্পেন। রোববার জোহানেসবার্গের সকার সিটি স্টেডিয়ামে নেদারল্যান্ডসকে ১-০ গোলে হারায় তারা।
https://i2.wp.com/a.espncdn.com/photo/2010/0711/soc_g_spainwcchamps01_576.jpg?w=1080
নির্ধারিত সময়ের ৯০ মিনিটের খেলা গোল শূন্যভাবে শেষ হয়। এরপর অতিরিক্ত সময়ের ২৬ মিনিটে জয়সূচক গোলটি করেন স্পেনের আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা। ইউরো চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর এবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়নও হলো তারা।
পুরো ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের খেলোয়াড়রা শক্তি প্রয়োগ করে খেলেছে। ফলে আটটি হলুদ কার্ড দেখার পাশাপাশি হেইটিঙ্গা অতিরিক্ত সময়ের ১৮ মিনিটে দেখেন লাল কার্ড।
প্রথমবারের মতো ফাইনালে উঠে শুরু থেকেই স্পেন নিজেদের মতো খেলেছে। ফলে কিছুটা হলেও নেদারল্যান্ডসকে চেপে ধরে ইউরো চ্যাম্পিয়নরা। খেলার ৪ মিনিটে ফ্রি-কিক পায় স্পেন। জাভির ফ্রি-কিক হাওয়ায় ভেসে নেদারল্যান্ডসের গোল মুখে পড়ে। মাথা দিয়ে গোলও করার চেষ্টা করেন সার্জিও রেমোস। কোনো মতে বলটি ঠেকান ওলন্দাজ গোলরক্ষক স্টেকেলেনবার্গ।
আট মিনিটে স্পেনের সার্জিও বাসকুয়েতের ভুলে বল পেয়ে যান নেদারল্যান্ডসের ডার্ক কুইট। তার শট ধরে ফেলেন স্পেনের গোলরক্ষক ইকার ক্যাসিয়াস।
পাল্টা-আক্রমণ চালিয়ে ওভারল্যাপ করে নেদারল্যান্ডসের ছোট বক্সে ঢুকে পড়েছিলেন র‌্যামোস। তার শট নেদারল্যান্ডসের রক্ষণভাগের খেলোয়াড় হেইটিংগারের পায়ে লেগে চলে যায় মাঠের বাইরে। কর্নার শট নেন জাভি। বল পেয়ে ডেভিড ভিয়া বাঁ পায়ে প্রচণ্ড শট নেন। অল্পের জন্য বল চলে যায় গোলপোস্টের বাইরে দিয়ে।
প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময় থেকে খেলায় কিছুটা হলেও ফিরে আসে নেদারল্যান্ডস। ওয়েসলি স্নাইডারের ফ্রি-কিক লুফে নেন ক্যাসিয়াস।
পূর্ব ধারণা অনুযায়ী, দুই দলই মাঝমাঠে শক্তি বাড়িয়ে খেলার নিয়ন্ত্রণ নেয়ার চেষ্টা করে। আক্রমণভাগে মাত্র একজন করে খেলোয়াড় রেখে দু’দলই মাঝ-মাঠে খেলিয়েছে পাঁচজনকে। তবে স্পেনের রক্ষণভাগের র‌্যামোস এবং কাপদেভিয়া মাঝে মধ্যে উপরে উঠে আসায় তাদের আক্রমণে ধার ছিল খানিকটা বেশি।
উল্টোদিকে স্নাইডার এবং আরিয়েন রোবেনই ছিলেন ওলন্দাজ আক্রমণের মূল কারিগর।
তবে একটা কথা না বললেই নয়, চাপের কারণেই হয়তো দু’দলই শুরুর দিকে বেশ শক্তি প্রয়োগ করে খেলে। প্রথমার্ধেই দু’দলের পাঁচজন খেলোয়াড়কে হলুদ কার্ড দেখান ইংল্যান্ডের রেফারি হাওয়ার্ড ওয়েব। এর মধ্যে তিনজন নেদারল্যান্ডসের, দু’জন স্পেনের।
খেলার ৩৭ মিনিটে কর্নার থেকে বল পেয়ে গোলে শট নেয়ার চেষ্টা করেন নেদারল্যান্ডসের ফন বোমেল। কিন্তু শট নিতে পারেননি তিনি। পাল্টা-আক্রমণ থেকে স্পেনের পেদ্রোর শট গোলপোস্টের সামান্য বাইরে দিয়ে চলে যায়।
বিরতির ঠিক আগে রোবেনের তীব্র শট কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন স্পেনের গোলরক্ষক ক্যাসিয়াস। ফলে গোল শূন্যভাবেই শেষ হয় প্রথমার্ধ।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই স্পেন প্রাধান্য বিস্তার করে। ৪৭ মিনিটে কর্নার পায় তারা। জাভির শটে মাথা দিয়ে গোল করার চেষ্টা করেন পুওল। সেই বল পেয়ে যান কাপদেভিয়া। কিন্তু তিনি শট নিতে পারেননি। খানিক পর জাভির ফ্রি-কিক গোলপোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়।
তবে পাল্টা-আক্রমণ চালিয়ে তীব্র শট নেন রোবেন। কিন্তু বল ধরে ফেলেন ক্যাসিয়াস। ৬১ মিনিটে সেরা সুযোগটি পেয়েছিলেন স্নাইডার। তিনি তা ঠেলে দেন রোবেনকে। কিন্তু ক্যাসিয়াসকে একা পেয়েও গোল করতে পারেননি রোবেন। ক্যাসিয়াসের পায়ে লেগে বল চলে যায় বাইরে।
খেলার ৭৬ মিনিটে চমৎকার একটি সুযোগ পায় ইউরো চ্যাম্পিয়ন। জাভির কর্নারে ‘হেড’ করেন র‌্যামোস। কিন্তু বল চলে যায় ক্রসবারের ওপর দিয়ে।
ছয় মিনিট পর পাল্টা-আক্রমণ চালায় নেদারল্যান্ডস। তীব্র শট নেন রোবেন। কিন্তু বল রুখে দেন ক্যাসিয়াস। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ের খেলা গোল শূন্যভাবে শেষ হয়।
অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধেও প্রাধাণ্য ছিল স্পেনের। গোলের একটি সহজ সুযোগ নষ্ট করেন বদলি খেলোয়াড় ফ্যাব্রেগাস। তাকে অনুসরণ করেন ইনিয়েস্তাও।
অতিরিক্ত সময়ের ১৮ মিনিটে লাল কার্ড দেখেন নেদারল্যান্ডসের হেইটিঙ্গা। এরপরই আসে স্পেনের সেই মাহেন্দ্র্ক্ষণ। অতিরিক্ত সময়ের ২৬ মিনিটে বল পান ফার্নান্দো তোরেস। তিনি সেটি দেন ফ্যাব্রেগাসকে। তার কাছ থেকে বল পেয়ে বক্সের ভেতর থেকে শট নেন ইনিয়েস্তা। বল জড়িয়ে যায় জালে। সেই সঙ্গে প্রথমবারের মতো বিশ্ব ফুটবলের রাজার মুকুট পড়ে মাঠ ছাড়ে স্পেন। আর তিনবার ফাইনালে উঠেও রানার-আপ হয়ে মাঠ ছাড়তে হয় নেদারল্যান্ডসকে।