সাইক্লোন সিডর কেবল দক্ষিণাঞ্চলের নয়, গোটা বাংলাদেশের যে একটা মস্ত বড় আরেক ধরনের ক্ষতি করে গেল সেটি হলো যুদ্ধাপরাধী প্রসঙ্গটিকে ধ্বংসাবশেষের মধ্যে যেন আপাতদৃষ্টিতে চাপা দিল। যে উত্তপ্ত এবং অত্যাবশ্যক আলোচনা চলছিল এই যুদ্ধাপরাধীর বিষয় নিয়ে, সেই আলোচনায় আকস্মিক ইতি টেনে দিল দক্ষিণাঞ্চলের এই ঘূর্ণিঝড় এবং যেন মনে হচ্ছে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, বাংলাদেশের মাটিতে তাদের রাজনীতি করার ক্ষমতা এসব প্রসঙ্গ উপড়ে পড়া গাছের মতোই বাহ্যত মুখ থুবড়ে পড়ল। তবে আমরা আশা করি, এই নীরবতা নিতান্তই সাময়িক কারণ যে, বিষয়টির সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্মের গুরুত্বপূর্ন প্রশ্ন জড়িত, তাকে এতখানি খাটো করে দেখার কোনোই অবকাশ নেই। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের একজন উপদেষ্টা অবশ্য প্রশ্ন তুলেছেন, ৩৬ বছর পর, যুদ্ধাপরাধের প্রশ্ন তুলে, তাদের কাজে বাধা দেওয়া হচ্ছে কেন, তাদের বিব্রত করা হচ্ছে কেন? এর পেছনে সেই উপদেষ্টা ষড়যন্ত্রের গন্ধ পেয়েছেন এবং বলছেন, তাদের সরকার এত বোকা নয় যে এই ফাঁদে পা দেবে। মুক্তিযুদ্ধের কোনো ইস্যুকে যদি স্বাধীন বাংলাদেশের কেউ ফাঁদে পা দেওয়া মনে করে, তাহলে এর চেয়ে দুর্ভাগ্যজনক আর কিছুই হতে পারে না। ছত্রিশ বছর পর এই যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রশ্নটি যে কারণে উঠল, সে কারণ নির্বাচনী ও রাজনৈতিক সংস্কারের সঙ্গেও জড়িত। এই তত্ত্বাবধায়ক সরকার যদি ৩৬ বছর পর আমাদের সত্যিকার অর্থে রাজনৈতিক ও নির্বাচনী সংস্ট‹ারের জন্য সদর্থক পরিকল্পনা গ্রহণ করে থাকে, তাহলে ৩৬ বছর ধরে আমরা যে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে পারিনি সেই প্রসঙ্গটিও উত্থাপন করার অধিকার স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিকদের রয়েছে। বস্তুত সেনাপ্রধান মইন উ আহমেদ প্রথমে এ ব্যাপারে জাতির দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন যখন তার প্রথমদিককার এক বক্তব্যে তিনি বলেন, আমরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে পারিনি এই ৩৬ বছরেও, সেটি জাতি হিসেবে আমাদের জন্য লজ্জার বিষয়। সত্যি কথা, যে হত্যাযজ্ঞের মধ্য দিয়ে দেশটি স্বাধীন হলো, সেই হত্যাযজ্ঞের হোতারা রাজনৈতিক নেতা সেজে, রাজনীতির অধিকার ভোগ করবেন, সেটি আর যা-ই হোক সংস্কারের সংস্কৃতি নয় । কিছুদিন আগে সবচেয়ে ধৃষ্টতাপূর্ন অনৈতিহাসিক বক্তব্য রাখেন জামায়াতের দু’জন নেতা, যারা তাদের এই বক্তব্যে বস্ট‘ত বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধকে আরো একবার অবমূল্যায়িত করেছেন। তারা এখনো একথাও পরিষ্কারভাবে বলেননি, একাত্তর সালে তারা ভুল করেছিলেন। জামায়াত নেতারা যে সাফাই গান, সেটি হলো তখনকার পরিপ্রেক্ষিতে তারা চাননি বাংলাদেশ ভারতের অনুগত একটি রাষ্ট্রে পরিণত হোক, আর সে জন্যই তারা সেই সময়ে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন। কিন্তু বস্তুত তাদের এ রকম ভাবনার মধ্যেই নিহিত ছিল নির্ভেজাল পাকিস্তাপ্রীতির লক্ষণ। ইতিহাসের চাকাকে তারা জোর করে পেছনে ঘোরানোর চেষ্টা করেছেন, ভারতভীতির এক কল্পিত যুক্তি তুলে, বাংলাদেশের মুক্তিকামী মানুষকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালিয়েছেন। বলাবাহুল্য, এই অপচেষ্টা এবং অপপ্রচার এখনো অব্যাহত আছে।

দুই. আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ একখন্ড রামায়ণও পড়বেন না জানি, কিন্তু আমি নিশ্চিত তিনি এটা ভালোই জানেন, সীতা কারো বাপ নয়। অথচ ভাজা মাছটি উল্কেল্ট খেতে জানেন না, এমন ভাব করে এই ব্যক্তি অকস্মাৎ এমন কিছু কথা বললেন যা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অবমূল্যায়নের নামান্তর মাত্র। তারই সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে ইসলামী ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান জামায়াতপন্থি শাহ আবদুল হান্নান বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে গৃহযুদ্ধ বলে আখ্যায়িত করেছেন। এসব বিষয় বাংলাদেশের মানুষের জন্য একটি বড় রকমের চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে। ইতিহাসের যে ভুল ব্যাখ্যা মুজাহিদ, তার দল এবং দলের সমর্থকরা দিয়ে আসছেন, তাতে নতুন প্রজন্মকে নানাভাবে বিভ্রান্ত করার একটা অসৎ উদ্দেশ্য কাজ করছে। বাংলাদেশের এই নতুন প্রজন্ম এবং বাংলাদেশের মানুষের মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় ইতিহাসের মাঝে একটি দেয়াল তুলে, বিস্তৃতি ও অপব্যাখ্যার মাধ্যমে সত্যকে আড়াল করার যারা চেষ্টা চালাচ্ছেন, তাদের সম্পর্কে সতর্ক হওয়ার এখনই সময়। আমরা আমাদের স্বাধীনতার ৩৬ বছর মাত্র পেরিয়ে এসেছি, মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে সংশ্লিষ্ট ছিলেন এমন ব্যক্তিরা এখনো জীবিত আছেন, এই সময়ে যদি জামায়াত নেতা এবং তার দল মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে এমন অপব্যাখ্যা দেন, তাহলে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রজন্ম যখন সবাই প্রয়াত হবেন তখন এই ইতিহাস যে পাকিস্তানের গৃহযুদ্ধের একটি ইতিহাসে পরিণত হবে না সেটাই-বা কে বলতে পারে। শাহ আবদুল হান্নান যে জ্ঞানপাপীর মতো মুক্তিযুদ্ধকে গৃহযুদ্ধ বললেন, তাতে এটা মনে না করার কোনো কারণই নেই যে, শাহ হান্নান বস্তুত পাকিস্তানের একশ্রেণীর লোকের চিন্তাধারারই প্রতিফলন ঘটাচ্ছেন। আশ্চর্যের বিষয় এই যে, যখন খোদ পাকিস্তানের গণতন্ত্রকামী ও উদার লোকজন অকপটে এটা স্বীকার করেন, বাঙালিদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়েছে এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পেছনে একাধিক ঐতিহাসিক ও যৌক্তিক কারণ ছিল তখন হান্নানরা যখন বলেন, এটা ছিল গৃহযুদ্ধ, তখন তাদের দেশপ্রেম সম্পর্কে সংশয়ের সৃষ্টি হয়। মুক্তিযুদ্ধের যৌক্তিকতা সম্পর্কে যারা এখনো সন্দিহান, তাদের বাংলাদেশের নাগরিক হওয়ার অধিকার কতটুকু, সে কথা বাংলাদেশের জনগণই ভেবে দেখবে। মনে রাখা প্রয়োজন, পাকিস্তানিরা নিজেদের ইতিহাস বইয়ে আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে গৃহযুদ্ধ হিসেবেই চিত্রিত করেছে। এটি গৃহযুদ্ধ ছিল না কোনো ব্যাখ্যাতেই, কারণ গোটা বাংলাদেশের মানুষ একান্ত ছিল মুক্তিযুদ্ধের প্রশ্নে। কিছু ঘরের শত্রু বিভীষণের অপকর্মই একে গৃহযুদ্ধের রূপ দিচ্ছিল। শাহ আবদুল হান্নানের বক্তব্য অনুযায়ী তর্কের খাতিরে যদি একে গৃহযুদ্ধ বলে মেনে নেওয়া হয়, তাহলে সেই মুক্তিযুদ্ধকে যারা গৃহযুদ্ধের রূপ দিতে চেয়েছিল নিজেদের দেশের লোককে হত্যা ও ধর্ষণ করে, তাদের শাস্তি হওয়ার প্রয়োজন আছে। বাঙালি জাতির জন্য এ এক পরিহাসের বিষয় যে নতুন করে আমাদের ইতিহাসের পাঠ নিতে হয় তাদের কাছ থেকে, যারা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ইতিহাসের আঁস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছিল।

তিন. মুজাহিদও যুক্তি দেখিয়েছেন যে, বাংলাদেশে কোনো যুদ্ধাপরাধী নেই, সেটি যে সম্পূর্ণ অসত্য ভাষণ সে কথা বলাবাহুল্য। তবে এটা বলা মোটেই বাহুল্য নয়, মুজাহিদের মতো যারা অহর্নিশ তরুণদের ডাক দেন, ‘এসো সত্যের পথে’ তারা সত্যের এ রকম অপলাপ করবেন সেটা আপাতদৃষ্টিতে অস্বাভাবিক মনে হলেও আমরা বাংলাদেশে আমাদের অভিজ্ঞতার মাধ্যমেই জেনেছি, যারা ধর্মকে রাজনৈতিক কারণে ব্যবহার করে থাকেন তারা ওই একই কারণে সত্যকে নির্ভয়ে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করেন। আসলে সাধারণ যেসব মানুষের মনে এখনো এ রকম প্রত্যাশা রয়েছে, ইসলামের নামে যারা দল করেছেন, তারা হয়তো আর যাই-ই করুন না কেন মানুষ ঠকাবেন না, তারাও সম্প্রতি হতাশ হয়েছেন আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের এই অসত্য ভাষণে। মুজাহিদ তার বক্তব্য প্রমাণ করার জন্য যেসব যুক্তি উপস্থাপন করেছেন তাকে কূটযুক্তির বেশি আর কিছু বলা যায় না। তিনি যে ১৯৫ জন পাকিস্তানি সৈন্য যাদের যুদ্ধাপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল, শিমলা চুক্তির মাধ্যমে তাদের প্রত্যাবর্তনের কথা বলেছেন, সেই চুক্তিটি ছিল ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান (তিনি অবশ্য জামায়াত-বিএনপি ঘরানার লোক বলে বঙ্গবন্ধু শব্দটি সযত্নে পরিহার করে ‘মরহুম’ শব্দটি তার স্থলাভিষিক্ত করেছেন) যুদ্ধাপরাধীদের ক্ষমা করে দিয়েছিলেন এ কথাটি সর্বৈব অসত্য। ১৯৭৫ সালের মধ্য আগষ্টেও এই যুদ্ধাপরাধে অনেকেই কারাবন্দি ছিল। পঁচাত্তর-পরবর্তী সময়ে সবার অগোচরে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়। আর ঝাঁকের কৈয়ের মতো তারা মিশে যায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘাতকদের সঙ্গে। এখানে ’৭৫-এর ঘাতক আর ’৭১-এর ঘাতকরা একটি অভিল্পু স্ট’ানে এসে দাঁড়ায়। সেজন্যই যখন শোনা যায়, পঁচাত্তরের সেই হত্যাকা-ের পেছনে পাকিস্টøান সরকার এবং তার গোয়েন্দা সংস্ট’ার হাত ছিল, তখন সেই সরল অঙ্কটা মেলাতে আর ভুল হয় না তেমন একটা।

চার. এখন যখন সংস্কারের সংস্কৃতি প্রাধান্য বিস্তার করেছে, তখন আমাদের ইতিহাসের বিভ্রান্তিগুলো দূর করার এটাই যথার্থ সময়। কিন্তু ইতিহাস নিয়ে এই বিভ্রান্তি কখনোই দূর হবে না যদি রাজনৈতিক ক্ষমতা অর্জনের সুযোগ দেওয়া হয় সেসব ব্যক্তি ও দলকে যারা একাত্তরে আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে কলুষিত করেছে এবং এখনো এর পরোক্ষ বিরোধিতা করছে। কেউ কেউ হয়তো সরল বিশ্বাসেই বলবেন, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে জামায়াত এবং অন্য মৌলবাদী দলগুলোর রাজনীতি করার, নির্বাচনের দাঁড়ানোর অধিকার আছে। কথাটির মধ্যে একটি তাত্ত্বিক সত্যতা রয়েছে বটে। কিন্তু বাস্তবে আমরা লক্ষ্য করি সেটি ঠিক নয়। এর প্রধান কারণগুলো হচ্ছে প্রথমত এ ধরনের ধর্মভিত্তিক দলগুলোর আদর্শ ও লক্ষ্য, স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধানের পরিপন্থী। দ্বিতীয়ত, এ দলগুলোর নিজস্ব গঠনতন্ত্র যে ধরনের শাসনব্যবস্থাা প্রতিষ্ঠিত করার কথা বলা হয়েছে, সে ধরনের শাসনব্যবস্থাা গনতান্রিক নয়। অর্থাৎ লক্ষ্য করার বিষয় এই যে, জামায়াতে ইসলামীর মতো দলগুলো, গণতন্ত্রের ছত্রছায়ায় ক্ষমতায় যাবে ঠিকই, কিন্তু সর্বময় ক্ষমতা লাভের পর তারা নানা ধর্মীয় কারণ দেখিয়ে অন্যদের অধিকারকে এতখানিই সঙ্কুচিত করবে যে, ইরানের সর্বোচ্চ পরিষদের অনুমতির মতো এখানেও সংসদের (তখন নাম হবে মজলিস-এ-শূরা) সদস্যদের মনোনয়নের জন্য কথিত ওলামাদের অনুমোদন নিতে হবে। এ ব্যবস্থাা যে গণতান্ত্রিক নয় সে কথা বলাবাহুল্য। সুতরাং যারা গণতান্ত্রিক অধিকারের যুক্তি প্রয়োগ করে অগণতান্ত্রিক শক্তিকে ক্ষমতায় বসাতে চায়, তারা যে মৌলিক জায়গায় ভুল করছে সেটা বোঝার প্রয়োজন। ভুলে গেলে চলবে না, জার্মানিতে এডলফ হিটলারও নির্বাচনে জয়লাভ করেই এসেছিলেন আর সেই বাহ্যিক জনপ্রিয়তাকে তিনি গণতন্ত্রবিরোধী কাজে বিনিয়োগ করেছেন সবচেয়ে বেশি। জামায়াতে ইসলামী এবং তাদের মতো মৌলবাদী, ফ্যাসিবাদী দলগুলো গণতন্ত্রের ধারালো অস্ত্র দিয়েই গণতন্ত্রকে হত্যা করবে নিঃসন্দেহেই। অতএব, কেবল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং তার ফলে সে দেশের স্বাধীন অস্তিত্বের কারণেই নয়, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার এই প্রচেষ্টায়, সব অগণতান্ত্রিক দল, ধর্মভিত্তিক দল এবং যারা ধর্মভিত্তিক শাসনব্যবস্থা কায়েমের তত্ত্ব জোগান দিচ্ছে সন্ত্রাসীদের, তাদের নিষিদ্ধ করা একান্তই দরকার। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে আমরা দেখেছি, এসব ক্ষেত্রে ক্ষমতার অপব্যবহার, জেএমবি, বাংলাভাইয়ের বাহিনীর বিরুদ্ধে বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীকে নিষ্ক্রিয় করার প্রয়াস এমনকি পুলিশের বর্তমান মহাপরিদর্শক নুর মোহাম্মদকে ইসলামী সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাা গ্রহণ থেকে নিবৃত্ত রাখার প্রচেষ্টা এ সবকিছুই প্রমাণ করে, ক্ষমতার ক্ষুদ্র অংশ পেয়েই জামায়াতের কী প্রভাব ছিল রাজনীতির ওপর যে মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমানের পুত্র তারেক রহমান জামায়াত ও বিএনপিকে সহোদর হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

এই যদি অবস্থাা হয় ক্ষমতা ভাগাভাগিতে, জামায়াত যদি কখনো এককভাবে ক্ষমতা লাভ করে, তাহলে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কোনো আদর্শই যে বহাল থাকবে না সে কথা বলাবাহুল্য। সংস্কার সাধনের এই নানামুখী প্রয়াসের সঙ্গে এ বিষয়টিকে অন্তর্ভুক্ত যদি না করা হয়, তাহলে সংস্কার অসম্পূর্ণ থাকবে এবং গোটা জাতিকে এই ক্ষতি, এই ক্ষত বহন করতে হবে অনন্তকাল। বিজয়ের মাসে নতুন করে ভেবে দেখতে হবে, বাংলাদেশকে এগিয়ে যেতে হলে তার সব প্রতিবন্ধকতা দূর করা কতখানি আবশ্যক। নইলে আমাদের বিজয়ের বয়স বাড়বে যত, ততই যেন আমরা দূরে সরে আসব, মুক্তিযুদ্ধের সেই চেতনা থেকে।

লেখক অনিরুদ্ধ আহমেদ , যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী সাংবাদিক ও কলামিস্ট।
মন্তব্যের জন্য ইমেইল ঠিকানা : aauniruddho@gmail.com